রোমাঞ্চের একভোর
- আবির গাঙ্গুলী
ভোর প্রায় সাড়ে চারটা এদিকে শ্রাবণ মাস। একটা মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া, ঘুমের রোমাঞ্চকর পরিবেশ। শহর তখনও ঘুমন্ত, নেই শব্দ। একটা ক্ষীণ অমলিন বাতাস, অক্সিজেন নির্ভেজাল। শরীর চর্চার সঠিক সময় বলা যেতে পারে। প্রকৃতির নির্যাসে শরীরের সুশৃঙ্খল স্ফলন, অগভীর চিন্তা রসকে রোমাঞ্চের ধারা বহে আনছে। যত সময় পেরোচ্ছে, পাখির কণ্ঠের আওয়াজ ওই শহর তলীর ঘরগুলিকে আন্দোলিত করছে। কুকুরদের চ্যাচাবার শব্দে কখনও জোড় কমে যাচ্ছে পাখিদের। তখন পরিবেশ - গলী - পাড়া সব ওদের শুধু ওদের। ঘড়ির ব্যস্ততা কখনও কমেনা। তাই, কখন এই নিভৃত শহরে আলো নেমে এলো, বোঝা দায়। শহরের দাপুটে রাস্তা গুলোও যেন নির্বিকার। আলো পেতেই কিছুটা আকারের চেষ্টা। নিয়নের আলো তখনও জ্বলে। সময় কাটতেই ছন্দে ফেরার গান, বেসুরো ক্লান্তিগুলো আবারও সুরে ফিরছে।
বাতাস নিরন্তর প্রশ্ন করছে 'সারাদিনের ক্লান্তি শেষে কেন হয়ে যাস তোরা বোবা?' মেঘ বলছে 'আমার গর্জনে এই মানবকূল হয়ে যাচ্ছে মেহবুবা।' যারা এখন নিদ্রারত তারাই জাগ্রত হবার পর গেয়ে উঠবে ' মেঘ বলেছে যাবো যাবো ' , 'মনমোর মেঘের সঙ্গী ', 'মেঘেদের মিনারে ' ইত্যাদি। বৃষ্টি হলে যে আরও কত কি!
পাখির ডাক আমরা নিশ্চুপে শুনতে পাই। তারা ডাকছে নিরন্তর তবে আমাদের সৃষ্ট আওয়াজে তাদের আওয়াজগুলো হ্রাস পায়। তাই, শুনতে পাওয়া যায়না সেসময়। সময় গল্প লেখে তৈরিও করে বাস্তব প্রেক্ষাপট। অনির্দিষ্ট থেকে নির্দিষ্টকরণ ঘড়ির ছন্দেই আঁকা। অনুভূতির দ্বারা বোঝা সম্ভব আর বিশ্বাস দ্বারা সৃষ্টি সম্ভব। ভালো - মন্দের মতো, পরিবেশ - পরিস্থিতি বাস্তবের পরিপূরক। ধ্যানমগ্ন সমাজ আগে মন্ত্র উচ্চারণ করে ধ্যান করতো কিন্তু এখন নির্বিকারে আঙুলের পরশে ধ্যান হয়ে থাকে। আমাদের অনুভূতি গুলোই জীবনের রসদ। সেটা ভোর কিংবা জনহীন মোড়...
#BeingSupreme
©ABIR'SCreativity


Too good Abir. Go ahead.
ReplyDelete